১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ - ০৩:২৭

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার পাসপোর্টধারী যে ইসরাইলি গুপ্তচরের আত্মহত্যার খবর বেরিয়েছে তিনি ২০১০ সালে দুবাইতে হামাস নেতা মাবহু হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

বার্তা সংস্থা আবনা : সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার পাসপোর্টধারী যে ইসরাইলি গুপ্তচরের আত্মহত্যার খবর বেরিয়েছে তিনি ২০১০ সালে দুবাইতে হামাস নেতা মাবহু হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী তেল আবিবের কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত একটি কারাগারে ওই বছরই 'প্রিজনার এক্স' নামে পরিচিত বেন জাইগিয়ের আত্মহত্যা করেন বলে সম্প্রতি খবর প্রকাশিত হয়েছে।

হামাস নেতা মাবহু ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুবাই’র একটি হোটেলে গুপ্তহত্যার শিকার হন। দুবাই পুলিশের তত্‌কালীন প্রধান সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করে বলেছিলেন, ইহুদিবাদী ইসরাইলের কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের ২৬ সদস্য বিভিন্ন ইউরোপীয় দেশের পাসপোর্টে দুবাই এসে ওই হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। কুয়েতের আল জারিদা পত্রিকার বরাত দিয়ে মার্কিন দৈনিক নিউ ইয়র্ক টাইমস আজ জানিয়েছে, বেন জায়গিয়ের ছিলেন ওই ২৬ জনের একজন।

যে দেশগুলোর ভুয়া পাসপোর্ট নিয়ে ওইসব ঘাতক দুবাই গিয়েছিলেন সে সব দেশের মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, আয়ারল্যান্ড, জার্মানী ও ফ্রান্স।

প্রকাশিত খবরে জানা যাচ্ছে, মোসাদের হয়ে এক দশক ধরে কাজ করা জায়গিয়ের নিজের নিরাপত্তার বিনিময়ে দুবাই কর্তৃপক্ষকে মাবহু হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের নাম ও ছবিসহ অন্যান্য তথ্য সরবরাহ করেছিলেন। 

কিন্তু দুবাইয়ে মাবহু হত্যাকাণ্ডের এক মাসের মাথায় ‘প্রিজনার এক্স’কে তার গোপন অবস্থান থেকে অপহরণ করে মোসাদ। তিনি ভুয়া পাসপোর্ট সংক্রান্ত বিষয়াদি প্রকাশ করে দিতে পারেন সন্দেহে তাকে কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়। এরপরই কারাগারে আত্মহত্যা করেন জায়গিয়ের।

অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, জায়গিয়ের হয়তো মাবহু হত্যাকাণ্ডসহ মোসাদের সব অপরাধ প্রকাশ করে দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, কিন্তু তাকে আর সে সুযোগ দেয়া হয়নি।

গতকাল (বৃহস্পতিবার) অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম খবর দেয়, অস্ট্রেলিয়ার পাসপোর্ট ব্যবহারের ব্যাপারে জায়গিয়েরের বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছিল দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।

২০১০ সালের দুবাই হত্যাকাণ্ডের পর ভুয়া পাসপোর্টকে কেন্দ্র করে অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় দেশগুলো তেল আবিবের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন (এবিসি) খবর দেয়, তেল আবিবের একটি কারাগারে ২০১০ সালের শেষদিকে আত্মহত্যা করেন। খবরে আরো বলা হয়, অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে জন্মগ্রহণকারী ৩৪ বছর বয়সী জায়গিয়ের ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে কাজ করতেন।

এরপর গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ইহুদিবাদী ইসরাইল জায়গিয়েরের আত্মহত্যার খবর স্বীকার করতে বাধ্য হয়। তেল আবিব দাবি করে, ভুয়া পরিচয়ের জের ধরে ‘নিরাপত্তাগত কারণে’ তাকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল।

ইহুদবিাদী ইসরাইল ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিয়ে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানোর পরও কীভাবে অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম খবরটি পেল তা স্পষ্ট নয়। হয়তো মোসাদের মধ্যেই নতুন করে কেউ এ ঘটনা ফাঁস করে দিয়েছে- যার পরিণতিও জায়গিয়েরের মতো হতে পারে।#রেডিও তেহরান